ডেস্ক নিউজ:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিএনপি নেতা আজিজুল হক চৌধুরী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবৈধ বালি উত্তোলন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রিদোয়ান খান।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন তারা এলাকায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে বালি সরবরাহ করে আসছে। এতে দৈনিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে চরবেতাগীর এলাকার মানুষের ফসলী জমির ক্ষয় শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়ার কারণে একটি রাজনৈতিক মামলায় মিথ্যা আসামি করে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। ২২ দিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান।
গত ৩ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তাঁর সহধর্মিণী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে বোয়ালখালী থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিলের চেষ্টা করেন। তবে থানার পরামর্শে প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে চাঁদাবাজির অভিযোগ বাদ দিতে বাধ্য হন। পরে ৬ জানুয়ারি প্রাণঘাতী হামলার বিবরণ সংযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বোয়ালখালী থানায় ৩/২০২৬ নম্বরে রুজু হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত বছরের ২৫ এপ্রিল অভিযুক্তরা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়। ৭ সেপ্টেম্বর তাদের একটি গোপন আস্তানা থেকে দুটি ভারী অস্ত্র ও ১৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আজিজুল হক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন এলাকায় অবৈধ বালি উত্তোলন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। তিনি অভিযোগকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, অবৈধ বালি উত্তোলন ও চ্যানেল দিয়ে বালি পরিবহন বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট জলদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান।
