ঢাকাSaturday , 22 November 2025
  1. আন্তর্জাতিক
  2. আর্ন্তজাতিক
  3. ওমান
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম
  6. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  7. জাতীয়
  8. জেলা-উপজেলা
  9. ঢাকা
  10. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  11. প্রথম পাতা
  12. প্রবাস
  13. ফটিকছড়ি
  14. বগুড়া
  15. বোয়ালখালী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষমতার শেষ সময়ে ফোনালাপে বলেন শেখ হাসিনা ‘মানুষ মেরে ক্ষমতায় থাকব না’: অডিও ফাঁস

ctg news
November 22, 2025 7:14 pm
Link Copied!

৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক পালাবদলের দিন। সরকার পতনের সেই উত্তাল মুহূর্তগুলো নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ফোনালাপ সেই অস্পষ্টতার ধোঁয়াশা অনেকটাই কাটিয়েছে। সমালোচকরা যখন দেশত্যাগের ঘটনাকে কেবল ‘পলায়ন’ হিসেবে চিত্রিত করতে ব্যস্ত, তখন এই অডিও ক্লিপটি মুদ্রার অপর পিঠ—একজন দায়িত্বশীল শাসকের মানবিকতা ও আত্মত্যাগের চিত্র—সামনে নিয়ে এসেছে। ফাঁস হওয়া কথোপকথনটি বিশ্লেষণ করলে শেখ হাসিনার বিদায়বেলার যে ইতিবাচক ও শক্তিশালী রূপটি ফুটে ওঠে, তা নিরিপেক্ষ বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

রক্তপাত এড়াতে ক্ষমতার মোহ ত্যাগ
অডিওর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো শেখ হাসিনার সেই স্পষ্ট উক্তি— “মানুষ মেরে থাকার মানে হয় না।” এটি কেবল একটি বাক্য নয়, বরং চরম সংকটময় মুহূর্তে নেওয়া এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সাধারণত বিশ্বের ইতিহাসে দেখা যায়, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় থাকা শাসকরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেন, যার ফলে হাজারো প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই পথে হাঁটেননি। তার হাতে রাষ্ট্রযন্ত্র ও বলপ্রয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, তিনি সাধারণ মানুষের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। পদত্যাগপত্র প্রস্তুত রাখা এবং রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি প্রমাণ করে, তিনি সংঘাতের চেয়ে শান্তি এবং জীবনের মূল্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

জরুরি অবস্থার প্রলোভন প্রত্যাখ্যান ও দূরদর্শিতা
ফোনালাপে শোনা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ড. হাছান মাহমুদ ‘ইমার্জেন্সি’ বা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ দিচ্ছেন। একজন শাসকের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ অস্ত্র হতে পারত এই জরুরি অবস্থা। কিন্তু শেখ হাসিনা অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, “তাতে লাভ হবে না।” এই প্রত্যাখ্যান তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচায়ক। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, জরুরি অবস্থা জারি করলে সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হবে, যা দেশকে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। নিজের গদি রক্ষার চেয়ে তিনি দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও জানমালের নিরাপত্তাকেই বড় করে দেখেছেন।

সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতি শ্রদ্ধা
চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও শেখ হাসিনা সাংবিধানিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। অডিওতে তার এই মনোভাব প্রমাণ করে যে, তিনি পালিয়ে যাওয়ার বদলে একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা ছাড়তে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে না পড়ে এবং কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সজাগ ছিলেন।

অভিমান এবং দেশপ্রেমের কান্না
“আমি কিন্তু থাকব না… এই দেশে আর না”— শেখ হাসিনার এই উক্তিতে ভীতির চেয়ে অভিমানই বেশি প্রবল। নোয়াখালীতে গান পাউডার দিয়ে ঘরবাড়ি পোড়ানো এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলার খবরে তার কণ্ঠে যে হতাশা শোনা গেছে, তা একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিকের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। যে দেশকে তিনি উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছিলেন, সেই দেশের মানুষের সহিংস আচরণ তাকে মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত এই চরম অকৃতজ্ঞতা ও সহিংসতার প্রতি এক ধরণের নীরব প্রতিবাদ। তিনি বুঝেছিলেন, তার উপস্থিতি যদি আরও সহিংসতার কারণ হয়, তবে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

ফাঁস হওয়া এই অডিও বার্তাটি শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক আখ্যানগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা কেবল প্রাণভয়ে দেশ ছাড়েননি; বরং তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। ‘মানুষ মেরে ক্ষমতায় না থাকার’ যে নীতি তিনি আঁকড়ে ধরেছিলেন, তা তাকে ক্ষমতার রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করেছে। ইতিহাস হয়তো তাকে এই চরম ত্যাগের জন্য এক মানবিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই মনে রাখবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।